ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের জন্য নয়াদিল্লির কর্তব্য পথে আয়োজিত সামরিক প্যারেডে এবার অনেক নতুন সংযোজন দেখা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে 'সূর্যাস্ত্র' নামক একটি নতুন রকেট লঞ্চার সিস্টেম এবং সম্প্রতি গঠিত 'ভৈরব' লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন। এছাড়া প্রায় ৬,০০০ জন সামরিক কর্মী এই প্যারেডে অংশগ্রহণ করবেন। এবারের অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং থিম নির্ধারিত হয়েছে 'বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর'।
নিউজ এজেন্সি পিটিআই-এর রিপোর্ট অনুসারে, দিল্লি এরিয়ার চিফ অফ স্টাফ মেজর জেনারেল নভরাজ ধিল্লন জানিয়েছেন যে প্রায় ৬,০০০ জন প্রতিরক্ষা কর্মী এই প্যারেডের অংশ হবেন। এবারের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লেয়েন এবং ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা। পুরো অনুষ্ঠানের থিম হল 'বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর', যা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
৩০০ কিমি মার করা সূর্যাস্ত্র ও ভৈরব কমান্ডো, ইউরোপীয় নেতাদের সামনে
এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসে অনেকগুলি প্রথমবারের সংযোজন রয়েছে, যা প্যারেডকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। 'সূর্যাস্ত্র' রকেট লঞ্চার সিস্টেমটি গভীর আক্রমণের ক্ষমতা সম্পন্ন এবং এটি সারফেস-টু-সারফেস স্ট্রাইক করতে সক্ষম ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এছাড়া নতুন গঠিত 'ভৈরব' লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন, চারটি জানস্কার পোনি, দুটি ব্যাকট্রিয়ান উট, চারটি র্যাপটর (চিল) এবং কয়েকটি আর্মি কুকুরও এই প্যারেডে প্রথমবার অংশ নেবে। এই তথ্য জানিয়েছেন ক্যাপ্টেন হর্ষিতা রাঘব, যিনি রিমাউন্ট ভেটেরিনারি কর্পস (আরভিসি) কন্টিনজেন্টের নেতৃত্ব দেবেন।
'সূর্যাস্ত্র' ইউনিভার্সাল রকেট লঞ্চার সিস্টেম (ইউআরএলএস) একটি অত্যাধুনিক অস্ত্র, যা ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। এটি দূরপাল্লার আক্রমণের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এবং এর সাহায্যে শত্রুর অবস্থানগুলিকে সহজেই লক্ষ্য করে আঘাত করা যায়। অন্যদিকে, 'ভৈরব' লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়নটি ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে গঠিত হয়েছে এবং এটি প্রথমবার প্রকাশ্যে এসেছে জয়পুরের আর্মি ডে প্যারেডে ১৫ জানুয়ারি। এই ব্যাটালিয়নের উদ্দেশ্য হল ইনফ্যান্ট্রি এবং স্পেশাল ফোর্সেসের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা, যাতে যুদ্ধক্ষেত্রে আরও কার্যকরী অপারেশন চালানো যায়।
Republic Day 2026: সূর্যাস্ত্র, ভৈরব ব্যাটালিয়ন ও যুদ্ধের পোশাকে ৬১ ক্যাভালরি সব প্রথমবার!
প্যারেডে ৬১ ক্যাভালরির কন্টিনজেন্ট সদস্যরা যুদ্ধের পোশাক পরে অংশ নেবেন, যা প্রথমবারের মতো ঘটবে। এছাড়া স্বদেশী প্ল্যাটফর্মসহ বিভিন্ন আর্মি অ্যাসেটও 'ফেজড ব্যাটেল অ্যারে ফর্মেশন' -এ প্রথমবার কর্তব্য পথে নামবে। এই ফর্মেশনে সৈন্যরা যুদ্ধের মতোই অগ্রসর হবে – প্রথমে রেকনেসান্স, তারপর অন্যান্য ইউনিট যেমন লজিস্টিক্স এবং পার্সোনেল, যারা যুদ্ধের পোশাক পরে থাকবেন।
ঐতিহ্যবাহী ৬১ ক্যাভালরি সাধারণত সামরিক প্যারেডের নেতৃত্ব দেয় তাদের সুন্দর ইউনিফর্ম এবং হেডগিয়ারে। কিন্তু এবার তারা যুদ্ধের পোশাক পরে আসবে, যা একটি নতুন দিক প্রকাশ করে। 'শক্তিবান' রেজিমেন্ট, যা আর্টিলারিতে গঠিত এবং ড্রোন, কাউন্টার-ড্রোন এবং লোয়টার মিউনিশন দিয়ে সজ্জিত, এবার প্রথমবার প্যারেডে অংশ নেবে। এছাড়া একটি মিক্সড স্কাউটস কন্টিনজেন্ট, যারা ভারী থার্মাল গিয়ার পরে থাকবে, কর্তব্য পথে প্রথমবার দেখা যাবে।
ঐতিহ্যবাহী ৬১ ক্যাভালরি সাধারণত সামরিক প্যারেডের নেতৃত্ব দেয় তাদের সুন্দর ইউনিফর্ম এবং হেডগিয়ারে। কিন্তু এবার তারা যুদ্ধের পোশাক পরে আসবে, যা একটি নতুন দিক প্রকাশ করে। 'শক্তিবান' রেজিমেন্ট, যা আর্টিলারিতে গঠিত এবং ড্রোন, কাউন্টার-ড্রোন এবং লোয়টার মিউনিশন দিয়ে সজ্জিত, এবার প্রথমবার প্যারেডে অংশ নেবে। এছাড়া একটি মিক্সড স্কাউটস কন্টিনজেন্ট, যারা ভারী থার্মাল গিয়ার পরে থাকবে, কর্তব্য পথে প্রথমবার দেখা যাবে।
অনুষ্ঠানের ফ্লাইপাস্ট দুটি অংশে বিভক্ত হবে এবং মোট ২৯টি বিমান প্রদর্শিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে রাফাল, সু-৩০, পি৮আই, মিগ-২৯, অ্যাপাচি, এলসিএইচ (লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার), এএলএইচ (অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার), মি-১৭ হেলিকপ্টার বিভিন্ন ফর্মেশনে এবং ট্রান্সপোর্ট বিমান সি-১৩০ এবং সি-২৯৫। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুসারে, মোট ১৮টি মার্চিং কন্টিনজেন্ট এবং ১৩টি ব্যান্ড এই প্যারেডে অংশ নেবে, যা প্রায় ৯০ মিনিট স্থায়ী হবে।
এই প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান শুধুমাত্র একটি সামরিক প্রদর্শনী নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা, স্বদেশী প্রযুক্তি এবং সৈন্যদের দক্ষতার একটি জীবন্ত প্রমাণ। 'সূর্যাস্ত্র' মতো অস্ত্রগুলি ভারতের আধুনিকীকরণের প্রতীক, যা দেশীয় উন্নয়নের উপর জোর দেয়। এটি ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্রাইক করতে সক্ষম, যা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই রকেট লঞ্চারটি বিভিন্ন ধরনের রকেট লোড করতে পারে, যা এটিকে বহুমুখী করে তোলে। ভারতীয় সেনাবাহিনী এই ধরনের অস্ত্রের মাধ্যমে তার কৌশলগত গভীরতা বাড়াচ্ছে, যা সীমান্তবর্তী এলাকায় শত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে।
'ভৈরব' ব্যাটালিয়নের গঠন একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এটি ইনফ্যান্ট্রি এবং স্পেশাল ফোর্সেসের মধ্যে একটি মধ্যবর্তী শক্তি হিসেবে কাজ করবে। এই ব্যাটালিয়নের সৈন্যরা বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, যারা দ্রুত অপারেশন চালাতে সক্ষম। জয়পুরের আর্মি ডে প্যারেডে তাদের প্রথম উপস্থিতি ইতিমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে এবং এখন প্রজাতন্ত্র দিবসে তারা জাতীয় স্তরে নিজেদের প্রমাণ করবে। এই ধরনের ইউনিটগুলি আধুনিক যুদ্ধের চাহিদা পূরণ করে, যেখানে গতি এবং নমনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৫০ বছরের বন্দে মাতরমে মিশে সামরিক গৌরব, প্রজাতন্ত্র দিবসে সূর্যাস্ত্র ও ভৈরবের প্রথম আগমন
পশুসম্পদের সংযোজনও এবারের প্যারেডকে অনন্য করে তুলেছে। জানস্কার পোনি এবং ব্যাকট্রিয়ান উটগুলি উচ্চপর্বতীয় এলাকায় সেনাবাহিনীর লজিস্টিক্সে ব্যবহৃত হয়, যা কঠিন ভূখণ্ডে সাহায্য করে। র্যাপটর এবং আর্মি কুকুররা বিশেষ কাজে ব্যবহৃত হয়, যেমন রেকনেসান্স এবং সার্চ অপারেশন। এই সংযোজনগুলি প্যারেডকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলে এবং দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে।
'ফেজড ব্যাটেল অ্যারে ফর্মেশন' একটি নতুন ধারণা, যা যুদ্ধের বাস্তবিক চিত্র তুলে ধরে। এতে সৈন্যরা ক্রমান্বয়ে অগ্রসর হয় – প্রথমে স্কাউটস, তারপর মূল শক্তি এবং লজিস্টিক্স। এটি দর্শকদের বোঝায় যে ভারতীয় সেনাবাহিনী কতটা প্রস্তুত এবং সংগঠিত। ৬১ ক্যাভালরির যুদ্ধের পোশাকও এই থিমের সাথে মিলে যায়, যা ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার মিশ্রণ।
'ফেজড ব্যাটেল অ্যারে ফর্মেশন' একটি নতুন ধারণা, যা যুদ্ধের বাস্তবিক চিত্র তুলে ধরে। এতে সৈন্যরা ক্রমান্বয়ে অগ্রসর হয় – প্রথমে স্কাউটস, তারপর মূল শক্তি এবং লজিস্টিক্স। এটি দর্শকদের বোঝায় যে ভারতীয় সেনাবাহিনী কতটা প্রস্তুত এবং সংগঠিত। ৬১ ক্যাভালরির যুদ্ধের পোশাকও এই থিমের সাথে মিলে যায়, যা ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার মিশ্রণ।
'শক্তিবান' রেজিমেন্টের সংযোজন ড্রোন প্রযুক্তির উপর জোর দেয়। আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা নজরদারি, আক্রমণ এবং প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত হয়। কাউন্টার-ড্রোন সিস্টেম শত্রুর ড্রোনকে নিষ্ক্রিয় করে এবং লোয়টার মিউনিশন দীর্ঘক্ষণ লক্ষ্যের উপর ঘুরে আক্রমণ করে। এই রেজিমেন্টের প্রথম উপস্থিতি ভারতের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দেখায়।
মিক্সড স্কাউটস কন্টিনজেন্টের থার্মাল গিয়ার উচ্চপর্বতীয় এবং ঠান্ডা আবহাওয়ায় কাজ করার ক্ষমতা প্রদর্শন করে। এটি সিয়াচেন বা লাদাখের মতো এলাকায় সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি তুলে ধরে।
ফ্লাইপাস্ট অংশটি সবসময় প্যারেডের হাইলাইট। ২৯টি বিমানের বিভিন্ন ফর্মেশন দর্শকদের মুগ্ধ করবে। রাফাল এবং সু-৩০ মতো ফাইটার জেটগুলি ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষার শক্তি দেখাবে, যখন হেলিকপ্টারগুলি গ্রাউন্ড সাপোর্টের ভূমিকা পালন করবে। ট্রান্সপোর্ট বিমানগুলি লজিস্টিক্স ক্ষমতা প্রদর্শন করবে।
সামগ্রিকভাবে, এই প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেড ভারতের ঐক্য, শক্তি এবং অগ্রগতির প্রতীক। 'বন্দে মাতরম' থিমটি জাতীয়তাবাদী অনুভূতি জাগিয়ে তুলবে এবং ইউরোপীয় অতিথিদের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে। এই অনুষ্ঠান লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে এবং দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতি গর্ববোধ জাগাবে।
