আদানির ধামাকা! ৮২০ কোটি টাকায় কিনে নিল ভারতের সবচেয়ে বড় ফ্লাইট ট্রেনিং কোম্পানি FSTC। এবার সিভিল-ডিফেন্স দুই পাইলটই তৈরি করবে আদানি!
আদানি ডিফেন্স সিস্টেমস (Adani Defence Systems) ৮২০ কোটি টাকায় ফ্লাইট সিমুলেশন টেকনিক সেন্টারে (FSTC) সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার কিনে নিয়েছে। এই ডিলটা দেখিয়ে দিচ্ছে যে ভারতে আদানি গ্রুপ এভিয়েশন সেক্টরে কতটা বড় বিনিয়োগ করছে। FSTC ভারতের সবচেয়ে বড় স্বাধীন ফ্লাইট ট্রেনিং কোম্পানি, যারা DGCA এবং EASA-র সার্টিফিকেট পেয়েছে। এই কেনার ফলে আদানি এখন সিভিল এবং ডিফেন্স – দুটো ক্ষেত্রেই ট্রেনিং সার্ভিস দিতে পারবে।
আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড এরোস্পেসের সিইও আশিস রাজবংশী বলেছেন, এটা গ্রুপের “সম্পূর্ণ ইন্টিগ্রেটেড এভিয়েশন সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম” বানানোর পরবর্তী স্বাভাবিক ধাপ।
গত সপ্তাহেই এই ডিলের ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু এভিয়েশন সেক্টরে এর পজিটিভ প্রভাব কী হবে, চলো একটু দেখে নিই।
বিশ্বজুড়ে এভাবেই নাম কামিয়েছে
FSTC ভারতের সবচেয়ে বড় ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফ্লাইট ট্রেনিং ও সিমুলেশন কোম্পানি। তাদের কাছে ১১টা অত্যাধুনিক ফুল-ফ্লাইট সিমুলেটর আর ১৭টা ট্রেনিং এয়ারক্রাফট আছে। DGCA আর ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (EASA)-র সার্টিফিকেট থাকার কারণে এদের ট্রেনিং স্ট্যান্ডার্ডকে পুরো বিশ্বই মান্যতা দেয়।
গুরুগ্রাম আর হায়দ্রাবাদে এদের আধুনিক সিমুলেশন সেন্টার আছে এবং আরও বাড়ানোর প্রচুর স্কোপ রয়েছে।
সিমুলেটর ছাড়াও হরিয়ানার ভিওয়ানি আর নারনৌলে FSTC-র দুটো বড় ফ্লাইং স্কুল আছে। এই স্কুলগুলো থেকে কমার্শিয়াল এবং ডিফেন্স পাইলটদের ট্রেনিং দেওয়া হয়, দেশের জন্য দক্ষ এভিয়েশন প্রফেশনাল তৈরি করা হয়।
আদানি গ্রুপের মহাপ্ল্যান
আদানি এন্টারপ্রাইজেসের মতে, সিমুলেটর-ভিত্তিক ট্রেনিং এখন বিশাল সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে – বিশেষ করে ডিফেন্স পাইলট ট্রেনিংয়ে। এতে খরচ কমে, নিরাপত্তা ও দক্ষতা দুটোই বাড়ে।
আরও পড়ুনঃ RBI কাটল রেপো রেট, এবার লোনের EMI কমবে? জানুন পুরো আপডেট
এভিয়েশন সেক্টরে কী লাভ হবে?
FSTC যখন আদানির বর্তমান এভিয়েশন কোম্পানি যেমন এয়ার ওয়ার্কস এবং ইন্ডামার টেকনিক্সের সঙ্গে যুক্ত হবে, তখন গ্রুপ এক ছাদের তলায় এই সব সার্ভিস দিতে পারবে:
- সিভিল এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স
- জেনারেল এভিয়েশন MRO
- ডিফেন্স MRO
- পুরো ফ্লাইট ট্রেনিং প্যাকেজ
আগামী কয়েক বছরে ভারতীয় এয়ারলাইন্স ১,৫০০-র বেশি উড়োজাহাজ কিনতে পারে, ফলে সার্টিফাইড পাইলটের চাহিদা আকাশছেটে বাড়বে। পাশাপাশি সরকারের উপর জোর থাকায় অত্যাধুনিক ডিফেন্স ট্রেনিং ও মিশন রিহার্সালের জন্য মিলিটারি সিমুলেশন সেক্টরে নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
আদানির লক্ষ্য – নিজেদের বৃহৎ জাতীয় নিরাপত্তা ভিশনের অংশ হিসেবে ভারতীয় ডিফেন্স পাইলটদের পরবর্তী প্রজন্মকে পুরোপুরি সাপোর্ট করা।
সংক্ষেপে বললে, আদানি এভিয়েশন ও ডিফেন্স ট্রেনিংয়ে একচেটিয়া পজিশন তৈরি করে ফেলছে – আর এটা শুধু ব্যবসার জন্য নয়, দেশের সিকিউরিটি ও স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্যও বিরাট পদক্ষেপ!1.3sFast
