মাধুরী দীক্ষিত, ত্রিপ্তি দিমরি এবং ধর্ণা দুর্গার ‘মা বেহেন’ নেটফ্লিক্সের গ্লোবাল নন-ইংলিশ ফিল্মে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে। স্প্যানিশ ছবিকে পেছনে ফেলে ১৫টি দেশে ট্রেন্ডিং। পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে হাস্যরসাত্মক সাহসী গল্প।
সুরেশ ত্রিবেণীর পরিচালিত ডার্ক কমেডি ‘মা বেহেন’ সম্প্রতি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে এবং এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে দারুণ সাড়া ফেলেছে। ছবিটি শুধুমাত্র একটি স্প্যানিশ ফিল্মের কাছে হেরে গিয়ে গ্লোবাল নন-ইংলিশ ছবির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে এক সাহসী এবং হাস্যরসাত্মক গল্প বলা এই ছবিটি দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।
নেটফ্লিক্সের সাম্প্রতিকতম মুক্তি ‘মা বেহেন’ পরিচালক সুরেশ ত্রিবেণীর নির্দেশনায় মাধুরী দীক্ষিত, ত্রিপ্তি দিমরি এবং ধর্ণা দুর্গার মতো শক্তিশালী অভিনেত্রীদের নিয়ে তৈরি হয়েছে। ছবিটি মুক্তির পর থেকেই সমালোচক এবং দর্শকদের প্রশংসায় ভরে গেছে। পিতৃতান্ত্রিক সমাজের নানা জটিলতা, পরিবারের অদ্ভুত গতিবিধি এবং সম্পর্কের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ক্ষোভ-হতাশাকে হিউমারের মাধ্যমে তুলে ধরেছে এই ছবি।
নেটফ্লিক্সের টপ ১০ নন-ইংলিশ ফিল্মে ‘মা বেহেন’-এর দ্বিতীয় স্থান
নেটফ্লিক্সের গ্লোবাল টপ ১০ নন-ইংলিশ ফিল্মের তালিকায় ‘মা বেহেন’ এখন দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। শুধুমাত্র স্প্যানিশ ছবি ‘দ্য মার্কড উওম্যান’ এটিকে টপকে প্রথম স্থানে আছে। এরপর তৃতীয় স্থানে রয়েছে বিগনেশ রাজার পরিচালিত ধনুষ অভিনীত ‘কারা’। চতুর্থ এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে মেক্সিকান-আমেরিকান ছবি ‘মেক্সিকো ৮৬’ এবং আর্জেন্টিনার ‘রিসা অ্যান্ড দ্য উইন্ড ফোন’।
ছবিটি বর্তমানে ১৫টি দেশে ট্রেন্ডিং করছে। এই সাফল্য নেটফ্লিক্সের জন্যও বড় খবর, কারণ ভারতীয় ছবির মধ্যে এটি এখন অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে। দর্শকরা ছবির গল্প, অভিনয় এবং সাহসী থিমের প্রশংসা করছেন। পরিবারের ভিতরের কলহ, সমাজের চাপ এবং নারীদের অবস্থানকে হাস্যরসের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে যা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজেই যুক্ত হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ পর্বত ভেদ করে ১৩ কিমি টানেল: কাশ্মীর ও লাদাখ এবার সারা বছর যুক্ত
মা বেহেন ছবির টিমের প্রতিক্রিয়া
মাধুরী দীক্ষিত এই সাফল্যে অত্যন্ত খুশি। একটি প্রেস নোটে তিনি বলেছেন, “এই ছবিতে যা আমাকে আকৃষ্ট করেছিল তা হলো এর গল্প বলার ক্ষমতা। এতে রয়েছে হাস্যরস, হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত এবং সততা। দর্শকরা যেভাবে চরিত্রগুলোর সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করছেন, তাদের সম্পর্কগুলো বুঝছেন এবং সেই সব কাণ্ড-কারখানা, ঝামেলা-ঝঞ্ঝাট উপভোগ করছেন, তা দেখে আমার খুব ভালো লাগছে।”
ত্রিপ্তি দিমরি ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ মনোলগের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “জয়ার সেই মনোলগ যেখানে সে তার স্বামীকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, সেই দৃশ্যটি আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি অনেক সময় ব্যয় করে জয়ার মানসিক যাত্রা বোঝার চেষ্টা করেছি। দর্শকরা যেভাবে এই মুহূর্তটির সঙ্গে সাড়া দিয়েছেন তাতে আমি খুব আনন্দিত।”
ধর্ণা দুর্গা এটিকে তাঁর নেটফ্লিক্সে অভিষেক হিসেবে অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা বলে অভিহিত করেছেন। “এটা আমার নেটফ্লিক্স ডেবিউ এবং এর চেয়ে ভালো শুরু আমি চাইতেও পারতাম না। পুরো টিমের সঙ্গে কাজ করা ছিল স্বপ্নের মতো।”
অভিনেতা রবি বলেছেন, “মামলা লিগ্যাল হ্যায়-এর পর আবারও মানুষের এত ভালোবাসা পাওয়া খুবই আনন্দের।”
পরিচালক সুরেশ ত্রিবেণী জানিয়েছেন, “ছবিটি শুরু থেকেই অস্বাভাবিক পরিবারিক সম্পর্ক, ত্রুটিপূর্ণ কিন্তু বাস্তবসম্মত চরিত্র এবং সমাজের বিচার-বিবেচনাকে হিউমার ও বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। আমরা চেয়েছিলাম এমন একটা গল্প বলতে যা বিনোদন দেবে এবং বড় দর্শকগোষ্ঠীকে ছুঁয়ে যাবে। দর্শকদের ভালোবাসা, প্রশংসা এবং যে সব আলোচনা ছবিটি ঘিরে তৈরি হয়েছে তা সত্যিই অসাধারণ।”
ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন গীতাঞ্জলী কুলকর্ণী, অরুণোদয় সিং এবং শার্দূল ভার্দ্বাজের মতো অভিনেতারা। ৪ জুন থেকে নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিং শুরু হয়েছে ‘মা বেহেন’।
ছবির গল্প এবং থিম নিয়ে আরও কিছু কথা
‘মা বেহেন’ শুধুমাত্র একটি সাধারণ কমেডি নয়। এটি সমাজের গভীরে প্রোথিত পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোকে প্রশ্ন করে। পরিবারের ভিতরে মা এবং বোনের সম্পর্ক, তাদের স্বপ্ন, হতাশা এবং বিদ্রোহের গল্প বলা হয়েছে এখানে। হাসির মাধ্যমে যে ব্যথা প্রকাশ করা হয়েছে তা দর্শকদের মনে দাগ কাটছে। অনেকেই বলছেন, ছবির চরিত্রগুলো তাদের নিজের জীবনের সঙ্গে মিলে যায়।
মাধুরী দীক্ষিতের মতো একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীর এমন একটি ছবিতে ফিরে আসা নতুন প্রজন্মের দর্শকদেরও আকৃষ্ট করেছে। ত্রিপ্তি দিমরির অভিনয় আগের ছবিগুলো থেকে আরও পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন সমালোচকরা। ধর্ণা দুর্গার মতো নতুন মুখের সঙ্গে এই অভিজ্ঞ তারকাদের মিশ্রণ ছবিটিকে বিশেষ করে তুলেছে।
পরিচালক সুরেশ ত্রিবেণী আগেও ‘তুম্বাদ’ এর মতো ছবিতে কাজ করেছেন। তাঁর গল্প বলার ধরন সবসময়ই অনন্য। ‘মা বেহেন’-এ তিনি হালকা হিউমারের আড়ালে গুরুতর বিষয় তুলে ধরেছেন যা খুব কম ছবিতেই দেখা যায়। ছবির স্ক্রিপ্ট, সংলাপ এবং চরিত্র নির্মাণে তাঁর দক্ষতা স্পষ্ট।
দর্শকদের প্রতিক্রিয়া এবং সামাজিক প্রভাব
মুক্তির পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘মা বেহেন’ নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেক নারী দর্শক বলছেন, ছবিটি তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। জয়ার মনোলগ অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, এই ছবি দেখার পর পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে সাহস পেয়েছেন।
ছবির টিমের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, পুরো ভারতীয় সিনেমার জন্যও গর্বের। নেটফ্লিক্সের মতো গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে এমন ছবির সাফল্য ভবিষ্যতে আরও সাহসী গল্প বলার পথ খুলে দেবে।
সার্বিকভাবে ‘মা বেহেন’ একটি বিনোদনমূলক ছবি হলেও এর মধ্যে রয়েছে সমাজ পরিবর্তনের বার্তা। হাসতে হাসতে যে চিন্তাভাবনা তৈরি হয়, সেটাই এই ছবির সবচেয়ে বড় সাফল্য। দর্শকরা যদি আরও এমন ছবি চান তাহলে নির্মাতারা নিশ্চয়ই সাড়া দেবেন।
এই ছবি দেখতে বসলে একঘেঁয়ে রুটিন থেকে বেরিয়ে একটা তাজা অভিজ্ঞতা পাবেন। পরিবারের সঙ্গে বসে দেখার মতো ছবি, কিন্তু একই সঙ্গে গভীর চিন্তার খোরাকও জোগায়। মাধুরী, ত্রিপ্তি, ধর্ণা এবং পুরো টিমকে অভিনন্দন। তাঁদের এই সাফল্য আরও অনেক দূর যাক।
