বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আহ্বান: ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ, হিন্দু গণহত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ঐক্যের ডাক।
Kolkata: বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা, বিশেষ করে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা, গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সাথে বলছে যে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণরূপে সংখ্যালঘু-বিরোধী এবং হিন্দু-বিরোধী নীতি অনুসরণ করছে।
এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমাদের মৌলিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে, আমাদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে, আমাদের ঘরবাড়ি, মন্দির এবং পবিত্র স্থানগুলো ধ্বংস করেছে। এটি শুধুমাত্র কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত এবং সুশৃঙ্খল গণহত্যার অংশ। আমরা এই সরকারকে স্পষ্টভাবে বলছি—এটি একটি চরমপন্থী এবং দমনমূলক শাসনব্যবস্থা, যা মানবাধিকারের প্রতিটি নীতিকে বারবার লঙ্ঘন করেছে।
ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর নির্মম আঘাত
আমাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরগুলোতে আক্রমণ, প্রতিমা ভাঙচুর, পূজার সময় হামলা—এসব এখন সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের পুলিশ ও প্রশাসন যখন এই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না, বরং অনেক সময় তাদের সহায়তা করে, তখন আমরা বুঝতে পারি যে এটি রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট নির্যাতন। আমাদের মেয়েরা নিরাপদ নয়। অসংখ্য হিন্দু পরিবারের কন্যাদের অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা এবং বিয়ে করিয়ে দেওয়ার ঘটনা বেড়েই চলেছে। এই সবকিছু একটি পরিকল্পিত উপায়ে হিন্দু জনসংখ্যাকে কমিয়ে আনার চেষ্টা।
আমরা হিন্দু গণহত্যার কথা বলছি কারণ এটি আর লুকানো যায় না। বিভিন্ন জেলায়, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে, হিন্দু পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে সাম্প্রদায়িক হামলা চালানো হচ্ছে। ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া, জমি দখল করা, ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস করা—এসব ঘটনার পর সরকার শুধুমাত্র মুখে শান্তির কথা বলে, কিন্তু বাস্তবে কোনো সুরক্ষা দেয় না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর রিপোর্টেও বারবার উঠে এসেছে যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সরকার এসব রিপোর্টকে অস্বীকার করে এবং বিদেশি মিডিয়াকে হুমকি দেয়।
নারীদের উপর সহিংসতা ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর
মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বললে শেষ করা যাবে না। সাধারণ মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সত্য কথা লিখলেই গ্রেপ্তার, নির্যাতন। সংখ্যালঘু নেতারা যারা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তাদেরকে হুমকি দেওয়া হয়, মামলা দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার পরিবর্তে আক্রমণকারীদের পক্ষ নেয়। এই পরিস্থিতিতে হাজার হাজার হিন্দু পরিবার দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিচ্ছে। এটি একটি নীরব গণহত্যা এবং জাতিগত নির্মূল অভিযানের রূপ নিয়েছে।
আমরা বিশ্বের সকল নেতৃবৃন্দ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি—এই চরমপন্থী ও দমনমূলক শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত সহ সকল গণতান্ত্রিক দেশকে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশের সরকারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করুন। অর্থনৈতিক সাহায্য বন্ধ করুন, কূটনৈতিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করুন এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার জন্য স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করুন। আমরা আর নীরবে মরতে চাই না। আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য বিশ্ববাসীর সাহায্য প্রয়োজন।
আরও পড়ুনঃ ওমান উপকূলে ভারতীয় জাহাজ ডুবির ঘটনা: ১৪ নাবিককে উদ্ধার করল মার্কিন নৌবাহিনী
এই সরকারের নীতিগুলো শুধুমাত্র ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নয়, বরং দেশের সামগ্রিক গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মানবিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধেও। যেসব মুসলিম ভাই-বোনেরা সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ান, তাদেরকেও নির্যাতন করা হয়। এটি একটি সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিবাদী শাসনের চেহারা। আমরা চাই না দেশটি আরও অন্ধকারে ডুবে যাক। বিশ্বকে এখনই জাগতে হবে।
🚨 Bangladesh has become an Islamic jihadist state.
— Voice Of BD Hindus 🇧🇩 (@BDHindus71) June 14, 2026
Its anti-Hindu govt has stripped minorities like us of our fundamental religious freedom, carried out Hindu genocide, and repeatedly violated human rights.
We call upon all world leaders and the international community to… pic.twitter.com/fZVitYTFJL
বাংলাদেশের ইতিহাসে সংখ্যালঘুরা সবসময় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও হিন্দু সম্প্রদায় ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই নির্যাতন আরও সংগঠিত রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন জেলা যেমন নোয়াখালী, কুমিল্লা, রংপুর, সিলেট সহ অনেক জায়গায় মন্দির আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি দলের স্থানীয় নেতারা অনেক সময় এসব ঘটনার সাথে জড়িত থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আমাদের জমি দখলের ঘটনা তো নিত্যনৈমিত্তিক। হিন্দু পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে যে জমিতে বাস করছে, সেখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে জাল দলিল তৈরি করে। আদালতে গেলেও বিচার পাওয়া যায় না কারণ প্রশাসন সংখ্যাগরিষ্ঠদের পক্ষ নেয়। এই পরিস্থিতিতে অনেক হিন্দু যুবক-যুবতী দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। ফলে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য কমে যাচ্ছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোও নিরাপদ নয়। দুর্গাপূজা, কালীপূজার সময় আতঙ্কে থাকতে হয়।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এখনই পদক্ষেপ নেওয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (USCIRF) বাংলাদেশকে বারবার 'অফ স্পেশাল কনসার্ন' দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টেও এ নিয়ে প্রস্তাব পাস হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এখনও যথেষ্ট চাপ তৈরি হয়নি। আমরা চাই স্যাংশন, বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা এবং মানবাধিকার তদন্ত।
এই সংগ্রাম শুধু আমাদের নয়, এটি গণতন্ত্রের সংগ্রাম। যদি সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা না করা হয়, তাহলে একদিন সকলের অধিকারই বিপন্ন হবে। আমরা বিশ্ব নেতাদের কাছে আবেদন করছি—এই নীরব গণহত্যা বন্ধ করুন। বাংলাদেশকে একটি সকল ধর্মের সমন্বয়ের দেশ হিসেবে ফিরিয়ে আনুন।
note: amader ei channelti kono dhormo ke aghat kore na , amra news er jonno je kono chobi ba article bebohar kore thaki kawke aghat korar jonno noi.
