ট্রাম্পের আদেশে লক্ষ লক্ষ ইউএফও নথি জনসাধারণের হাতে

Bhaskar

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: ইউএফও ও অ্যালিয়েন ফাইল প্রকাশ, নতুন ছবি-ভিডিওসহ অজানা বস্তুর তথ্য জনসাধারণের হাতে

ট্রাম্পের আদেশে লক্ষ লক্ষ ইউএফও নথি জনসাধারণের হাতে



ওয়াশিংটন, ৮ মে ২০২৬ — যুক্তরাষ্ট্র সরকার অবশেষে দীর্ঘদিনের গোপনীয়তার পর্দা সরিয়ে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার (পূর্বের পেন্টাগন) আজ প্রথমবারের মতো বহু অজানা ইউএপি (UAP) ফাইল প্রকাশ করেছে। এতে রয়েছে এমন সব ছবি, ভিডিও ও রিপোর্ট যা আগে কখনো জনসমক্ষে আসেনি।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে বলেছিলেন, “অ্যালিয়েন ও বহির্জাগতিক জীবন, ইউএফও, ইউএপি এবং এর সাথে সম্পর্কিত সব তথ্য ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হবে।” তার এই নির্দেশের পর ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার, ওডিএনআই এবং অন্যান্য সংস্থা মিলে লক্ষ লক্ষ নথি পর্যালোচনা শুরু করে। আজ প্রথম ব্যাচে ১৬২টি ফাইল প্রকাশ করা হয়েছে।



নতুন প্রকাশিত ফাইলগুলোতে কী আছে?

সরকারি ওয়েবসাইট war.gov/UFO-এ এখন যা পাওয়া যাচ্ছে:


যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ধরা পড়া অজানা বস্তুর উন্নত ইনফ্রারেড ইমেজ।

২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ের ঘটনা।

ইউরোপ, আফ্রিকা, জাপান ও পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর রিপোর্ট।

একটি হেলিকপ্টারের ঠিক নিচে হঠাৎ দেখা অজানা বস্তুর ভিডিও।

জাপান উপকূলে ইউএস ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের রিপোর্ট করা ফুটবল আকৃতির বস্তু।

অ্যাপোলো ১৭-এর চাঁদের ছবিতে অব্যাখ্যাত আলোর ঝলকানি।

সামরিক ইনফ্রারেড সেন্সরে ধরা পড়া একাধিক ভিডিও ক্লিপ।

দক্ষিণ-পূর্ব আমেরিকায় ঘটা একটি ঘটনার পুনর্নির্মাণ।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো — সরকার স্বীকার করেছে যে এগুলো আনরিসলভড কেস। অর্থাৎ এখনো কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।


আরও পড়ুনঃ ট্রাম্পের ইরান-হুঁশিয়ারি: F-35, F-22, দুই বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রস্তুতি সর্বোচ্চ মাত্রায়



এই প্রকাশ কেন এত বড় ঘটনা?

দীর্ঘদিন ধরে ইউএফও নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব চলছিল। অনেকে বিশ্বাস করতেন যে সরকার অনেক কিছু জানে কিন্তু লুকিয়ে রাখছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবার সেই অভিযোগের জবাব দিয়েছেন। সেক্রেটারি অফ ওয়ার পিট হেগসেথ বলেছেন, “এটা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় স্বচ্ছতার উদ্যোগ।”


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব বস্তুর বর্ণনা পাওয়া গেছে সেগুলোর গতি, দিক পরিবর্তনের ক্ষমতা এবং প্রযুক্তি বর্তমান পৃথিবীর কোনো দেশের জানা প্রযুক্তির বাইরে। এতে করে বহির্জাগতিক সভ্যতার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।




জনগণ ও বিশ্বের প্রতিক্রিয়া

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ভাইরাল হয়ে গেছে। অনেকে উৎসাহিত, আবার কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করছেন। বিজ্ঞানী, সাবেক পাইলট ও ইউএফও গবেষকরা এখন এই ফাইলগুলো বিশ্লেষণ করছেন। সরকার নিজেই বলেছে — বাইরের বিশেষজ্ঞরা এগুলো দেখে নতুন ব্যাখ্যা দিতে পারলে তা স্বাগত।

আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে আরও অনেক ফাইল প্রকাশিত হবে বলে জানানো হয়েছে। এটা শুধু প্রথম ধাপ।



শেষ কথা

এই ঘটনা শুধু আমেরিকার নয়, পুরো মানবজাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদি সত্যিই আমরা একা না হয়ে থাকি, তাহলে এই প্রকাশ হয়তো ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মোড় হতে পারে।

তোমরা নিজেরাও war.gov/UFO ওয়েবসাইটে গিয়ে ফাইলগুলো দেখতে পারো।